নোয়াখালী প্রতিনিধি
দীর্ঘ উনিশ বছর যাবত ২ রুমে ১৫ জনের বসবাস। স্বাভাবিক জীবনযাপন চরমভাবে ব্যহত। নেপথ্যে জায়গা-জমির বিরোধ।প্রভাবশালীদের করা মোকাদ্দমা মামলার শিকার এক অসহায় পরিবারটি। ঘটনাটি নোয়াখালী জেলার চাটখিল পৌরসভার ভীমপুর গ্রামের। ভূক্তভোগীর নাম মোঃ আবুল কালাম। পিতা- মোঃ ইদ্রিস মিয়াঁ। আজ থেকে ১৯ বছর আগে নিজের জমানো শেষ সম্বল দিয়ে বসবাসের জন্য তিনি একটি বাড়ী করার কাজ শুরু করেন। টিনের পুরনো ঘরটি ভেঙে ফেলার পর প্রতিবেশী শত্রুতা করে জোরপূর্বক কাজটি বন্ধ করে দেয়। তারা নোয়াখালী কোর্টে জমি সংক্রান্ত মামলা করে। মামলার নম্বর-দেওয়ানী মামলা নং ৭২/২০০৪ ইং। আবুল কালাম অসহায় হয়ে পড়েন। নিজের কেনা দখলকৃত এবং উওরাধিকীরি সূত্রে পাওয়া জমি হওয়া সত্বেও মামলার কারণে বাড়ীর কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন আবুল কালামের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮ জন। কিন্তু বসবাসের কক্ষ মাত্র দু’টি। শুরু হয় অসহায় মানবেতর জীবন যাপন। দীর্ঘ ১৫ বছর মামালার ফলাফলের অপেক্ষায় থাকার পরও কোনো ফল আসেনি। এদিকে আবুল কালাম ও তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৬ জন। অথচ থাকার কক্ষ সেই দু’টিই, তাও মেরামতের অভাবে বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য। মামলার স্থবিরতার কারনে আবুল কালামের জায়গা থাকা সত্ত্বেও কক্ষ বাড়াতে পারছেন না। ভুক্তভোগী এ পরিবারের দাবি, “বর্তমানে সুস্হভাবে বসবাসের জন্য তাদের পুরনো রুম দু’টি মেরামত এবং নতুন আরো ৪ টি রুম করা অত্যন্ত জরুরী।” মহামারী কভিড-১৯ ভাইরাস এর কারনে যেখানে সামাজিক দূরত্ব (Social Distancing) অত্যন্ত জরুরী, সেখানে এই অসহায় পরিবারের সদস্যরা এক রুমে ৬/৭ জন গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। এ কঠিন অবস্হায় যদি তাদের পরিবারের কেউ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়, তবে পরিস্থিতি হবে বর্ণনাতীত ভয়াবহ। এ কঠিন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মোঃ আবুল কালাম ও তার পরিবারবর্গ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দেশবাসীর কাছে সাহায্য কামনা করছেন, যেন অতি সত্ত্বর তাদের এই মানবেতর জীবনের অবসান হয়।
Leave a Reply